ধাপ ১: ভোটার তালিকায় নাম যাচাই
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে নিকটস্থ ভোটার তালিকা যাচাই করুন অথবা অনলাইনে ভোটার তালিকা চেক করুন।
এই গণভোটে "হ্যাঁ" ভোটের মাধ্যমে আমরা একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র, স্বচ্ছ ও জবাবদেহী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর হবো। নিম্নে প্রস্তাবিত সংস্কারসমূহ তুলে ধরা হলো:
কোনো ব্যক্তি ১০ বছরের বেশি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকতে পারবেন না। এটি স্বৈরাচারী শাসনের পথ বন্ধ করবে এবং নিয়মিত নেতৃত্বের পরিবর্তন নিশ্চিত করবে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা সংবিধানের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিত করা হবে, যা প্রতিটি নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচারের পথ উন্মুক্ত করবে।
সরকারি দল এককভাবে রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতি, নির্বাচন কমিশনার ও ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ দিতে পারবে না। নিয়োগের জন্য বহুদলীয় সমর্থন আবশ্যক হবে।
উচ্চকক্ষের সমর্থন ছাড়া সরকার ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন বা বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনো চুক্তি করতে পারবে না।
সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান (নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক) পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ভোগ করবে।
স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ ক্ষমতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।
বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। এতে সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির সম্মান ও সংরক্ষণ নিশ্চিত হবে।
জাতিগত পরিচয় "বাঙালি" এর পরিবর্তে "বাংলাদেশি" করা হবে, যা দেশের সকল নাগরিকের মধ্যে সম্প্রীতি ও জাতীয়তাবাদকে দৃঢ় করবে।
সংবিধান সংশোধনের জন্য নিম্নকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ও উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের প্রয়োজন হবে। এটি সংবিধানের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
জরুরি অবস্থা জারির জন্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও বিরোধী দলের উপস্থিতি আবশ্যক করা হবে। এটি স্বৈরাচারী প্রবণতা রোধ করবে।
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা সীমিত করা হবে, এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতি প্রয়োজন হবে। এতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।
বাজেট ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোট প্রদানের অধিকার দেওয়া হবে। এটি সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।
গণভোট বা রেফারেন্ডাম হলো একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি যেখানে জনগণ সরাসরি কোনো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা রাজনৈতিক বিষয়ে ভোট প্রদান করে।
গণভোটে ভোট দেওয়া অত্যন্ত সহজ। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে নিকটস্থ ভোটার তালিকা যাচাই করুন অথবা অনলাইনে ভোটার তালিকা চেক করুন।
গণভোটের দিন নির্ধারিত সময়ে আপনার ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন। জাতীয় পরিচয়পত্র সাথে নিতে ভুলবেন না।
ব্যালট পেপারে "হ্যাঁ" এর পাশে টিক চিহ্ন দিন। মনে রাখবেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য "হ্যাঁ" ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাই আন্দোলন ২০২৪ ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। ছাত্র-যুবকদের নেতৃত্বে এই আন্দোলন স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের দাবিতে গড়ে উঠেছিল।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া ছাত্র-যুব আন্দোলন ছিল স্বৈরাচারী শাসন, একদলীয় শাসনব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের যুবসমাজের গণজাগরণ।
এই আন্দোলনের মূল দাবিসমূহ ছিল:
জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য সংগঠিতভাবে রাস্তায় নেমে আসে। এই আন্দোলনের ফলে:
এই গণভোট ২০২৬ হলো জুলাই আন্দোলনের সেই আকাঙ্ক্ষার বাস্তব রূপায়ণ।
গণভোট সম্পর্কে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর:
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ আপনার হাতে। আসুন আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র, স্বচ্ছ ও জবাবদেহী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করি।
গণভোটে "হ্যাঁ" ভোটের পক্ষে জনমত গঠনে আপনার অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত হয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভূমিকা রাখুন।